নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন:
দল গঠনের বয়স এক বছরও পেরোয়নি। নেতাদের অনেকের শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে বড়জোর বছর দুয়েক আগে। প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া এসব তরুণ নেতার সম্পদ নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল শুরু থেকেই। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে সেই কৌতূহলের উত্তর। কারো নগদ অর্থ বাবার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি, আবার কারো পেশাজীবনের শুরুতেই ব্যাংকে ও হাতে রয়েছে বিপুল অর্থ ও স্বর্ণালংকার।
নাহিদ ইসলামের পরামর্শক থেকে সংসদীয় দৌড়
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচনে লড়ছেন। ২৭ বছর বয়সি এই নেতার কোনো স্থাবর সম্পদ বা ফৌজদারি মামলা নেই। পেশায় নিজেকে ‘পরামর্শক’ পরিচয় দিয়ে হলফনামায় তিনি ৩২ লাখ টাকার বেশি সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। বছরে তার আয় ১৬ লাখ টাকা। আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। নিজের পৌনে ৮ লাখ ও স্ত্রীর ১০ লাখ টাকার গয়না থাকলেও তার ৩ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে।
বাবার চেয়ে ১৮ গুণ সম্পদ হান্নানের
নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম দুজনই প্রার্থী হয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, হান্নানের নগদ টাকা তার বাবার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি। হান্নানের কাছে নগদ ৩৫ লাখ টাকা থাকলেও তার বাবার রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। আলিম পাস হান্নান ‘ডিজিল্যান্ট গ্লোবাল’ নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং পেশায় ব্যবসায়ী।
হাসনাত ও সারজিসের সম্পদের খতিয়ান
কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর মোট সম্পদ প্রায় ৫০ লাখ টাকার। এর মধ্যে ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার সোনা এবং সাড়ে ১৩ লাখ টাকা নগদ রয়েছে। পেশায় ব্যবসায়ী হাসনাতের কোনো গাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। অন্যদিকে, পঞ্চগড়-১ আসন থেকে লড়া সারজিস আলমের বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা এবং মোট সম্পদ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার। তার দান হিসেবে পাওয়া জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।
নাসীরুদ্দীন ও আখতার হোসেনের আর্থিক বিবরণী
ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হাতে নগদ ২৫ লাখ টাকা এবং দম্পতির মিলে ২২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার রয়েছে। পেশায় মার্কেটিং কনসালট্যান্ট হিসেবে তার বার্ষিক আয় প্রায় ৫ লাখ টাকা। রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেনের নিজের ও স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পদ ৪৩ লাখ টাকার। পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী আখতারের ১৩ লাখ টাকা নগদ থাকলেও কোনো গাড়ি বা বাড়ি নেই।
সিলেটের তিন প্রার্থী ও কোটিপতি রাসেল
সিলেটের তিনটি আসনে এনসিপি প্রার্থীরা লড়ছেন। সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী রাসেল উল আলম এই তালিকার সবচেয়ে বিত্তবান। আইটি ডেভেলপার রাসেলের দেশে-বিদেশে বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার উপরে। তার স্থাবর সম্পদের মূল্য ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি।
সিলেট-১ আসনের প্রার্থী এহতেশামুল হক সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ও তার স্ত্রীর দেশে-বিদেশে উল্লেখযোগ্য আয় রয়েছে। সিলেট-৩ আসনের ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ পেশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী হলেও তার ২০ লাখ টাকার বেশি অস্থাবর সম্পদ ও যৌথ মালিকানায় দোতলা বাড়ি রয়েছে।
অন্যান্য
ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এনসিপির সদ্য সাবেক নেতা তাসনিম জারার মোট সম্পদ ১৯ লাখ টাকার। পেশায় চাকরিজীবী জারার বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকার বেশি এবং তার কাছে ১৬ লাখ টাকা নগদ অর্থ রয়েছে।
উল্লেখ্য, হলফনামায় কোনো তথ্য গোপন বা অসত্য প্রমাণিত হলে নির্বাচনের পরও সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কঠোর বিধান রয়েছে। বর্তমানে এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে সাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।