নিজস্ব প্রতিবেদক ও অনলাইন ডেস্ক॥
ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে বুধবার থেকে শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং ১ ও ২ জানুয়ারি ২০২৬) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। শোক চলাকালীন আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিদায় নিলেন ‘গণতন্ত্রের মা’
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রথম তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়। পরে সকাল সোয়া ৯টায় হাসপাতালে আয়োজিত এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই সংবাদটি নিয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে হবে তা কখনও ভাবিনি। আমরা আশা করেছিলাম তিনি আবারও সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরবেন। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি-আমাদের অভিভাবক, জাতির অভিভাবক এবং গণতন্ত্রের মা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।”
শেষ মুহূর্তের স্বজনরা
মৃত্যুকালে বেগম খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হাসপাতালে আরও উপস্থিত ছিলেন পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।
এছাড়া তাঁর ছোট ভাই শামীম এসকান্দার ও তাঁর স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিএনপি মহাসচিব এবং মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকগণ শেষ সময়ে হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
দীর্ঘ অসুস্থতা ও লড়াই
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। একই সাথে তাঁর কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ছিল। দীর্ঘ অসুস্থতার সাথে লড়াই করে আজ ভোরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন দেশের এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।