শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥
শরীয়তপুর-চাদঁপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে অধিগ্রহণের সরকারি জমিতে নতুন করে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা দোকান মার্কেট রেস্টুরেন্ট নির্মানের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। যার কারনে দিনদিন শরীয়তপুর সওজ’ এর মালিকানা জমি বেদখলে চলে যাচ্ছে।
দখলের চিত্র দেখে স্থানীয় এলাকাবাসীদের মধ্যে নানা চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এ বিষয় যেন কোন মাথা ব্যথা নেই প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সড়ক বিভাগের।
সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের বালারবাজার এলাকার শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দু পাশে গড়ে উঠছে অসংখ্য কাঁচা পাকা দোকান সহ মার্কেট।
তারাবুনিয়া মৌজার ২৫৩৭৩ নং দাগে এল এ কেচ ৬/১৯ এর অধিগ্রহনের জমিতে প্রায় অর্ধশত দোকান নির্মান করছেন নিষিদ্ধ সংগঠন সখিপুর থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পাপ্পু দেওয়ানের বাবা আওয়ামী লীগের কর্মী মেজ-বাহাদুর দেওয়ান ও তার ভাই চরসেনসাস ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মিজান দেওয়ান গং।
এছাড়াও শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের চারলেন সড়কের অধিগ্রহনের জমির বালারবাজারে দু পাশের সরকারি জমিতে নতুন করে প্রায় দেড়শত কাঁচা পাকা দোকান নির্মান করে ফেলছেন। এদিকে বালারবাজার ওয়েস্টার্ন সেতুর নিচের অংশে দখল করে ৪/৫ টি রেস্তোরাঁ /রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। সড়কের জমি দখলের হিড়িক পড়লেও কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছে না শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর উপজেলার মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুরের মেঘনা নদীর ফেরিঘাট পর্যন্ত শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়কটির দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটার। খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।
২০১৯ সালের ১২ মার্চ সড়ক উন্নয়নের প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৮৫৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রথমে প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৯৫ দশমিক ৮৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়।
২০১৯ সালের জুনে জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত মাত্র ২৯ দশমিক ২৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ শেষে সড়ক বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বাকি ৬৬ দশমিক ৬০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
জমি দখলকৃত আওয়ামী লীগ কর্মী মেজবাহাদুর বলেন, আমাদের জমির টাকা পাইনি। তাই সড়কের জমিতে দোকন তুলছি।আর আমাদের পাশেই আরোও অনেকে দোকান নির্মান করতাছে তাই আমরাও দোকান নির্মান করছি।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাবিল হোসেন বলেন,কেউ অবৈধভাবে সড়কের অধিগ্রহণ করা জমি দখল করছে আমি শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এবং খুব দ্রুতই সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।