নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে অনুভূত কয়েকটি ছোট ছোট ভূমিকম্পের (কম্পন) ঘটনায় জনমনে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে সাধারণ জনগণকে স্বস্তিতে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই পরপর ছোট কম্পনগুলো মূলত ‘আফটার শক’, যা একটি প্রধান কম্পন বা ‘মেইন শকের’ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
পরিচালক মমিনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, বড় ভূমিকম্পের (মেইন শক) ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ধরনের ছোট কম্পন অনুভূত হতে পারে। তবে আপাতত বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্পের ঝুঁকি নেই।
যা বললেন বিএমডি পরিচালক:
‘মেইন শক’ এবং ‘আফটার শক’: তিনি বলেন, “গত পরশুদিনের কম্পনকে আমরা মেইন শক হিসেবে মনে করি। একটি বড় ভূমিকম্পের আগে প্রি-শক এবং পরে আফটার শক হয়ে থাকে। গতকাল যে ছোট ছোট কম্পনগুলো অনুভূত হয়েছে, তা হলো আফটার শক। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। একটি ইভেন্টের পর ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ধরনের কম্পন হতে পারে।”
গুজব অস্বীকার: নরসিংদী ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন স্থানে পরপর কম্পনের পর মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং ‘দুই ঘণ্টার মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে’-এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিএমডি পরিচালক এই গুজবকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। এখন যা কিছু হচ্ছে, তা কেবল আফটার শক। এগুলো সবসময় মূল শকের চেয়ে ছোট হয় এবং ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি হয়েছে, আর নতুন কম্পন নাও হতে পারে।”
ভূমিকম্পের ঝুঁকি: তিনি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের বিষয়ে জানান যে, দেশটি তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এই প্লেটগুলো হলো-ইউরেশিয়ান প্লেট (উত্তর-পশ্চিমে), ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (বাংলাদেশের ওপর) এবং বার্মা মাইক্রোপ্লেট (পূর্বে)। এ কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সর্বদা বজায় থাকে। সাম্প্রতিক কম্পনগুলো সরাসরি প্লেট বাউন্ডারিতে না হলেও সম্ভবত মূল ফল্ট লাইনের সাবফল্ট হিসেবে এসেছে।
শান্ত থাকার আহ্বান: পরিচালক জনগণের প্রতি শান্ত থাকার এবং বিএমডির নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যেহেতু একটি ৫.৭ মাত্রার কম্পন ভূখণ্ড অ্যাবজর্ব করতে পেরেছে, তাই ৩ বা ৪ মাত্রার আফটার শক নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আফটার শক সাধারণত মূল শকের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়। গুজবে কান না দিয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলুন।”