জবি প্রতিনিধি ॥
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিবস উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী শিক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রাজধানীর ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ (ভিক্টোরিয়া) পার্কে সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য একটি সাপ্তাহিক স্কুল উদ্বোধন করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে ও উদ্যোগে ‘সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষালয়’ নামে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয়।
উদ্বোধনের দিন প্রায় ১০০ জন শিশুর হাতে নতুন বই, পোশাক ও খাবার তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষালয়ের পরিবেশ তৈরির জন্য কার্পেট, চেয়ার-টেবিলসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়।
শিক্ষাদান কার্যক্রম
এই শিক্ষালয়টিতে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ক্লাস নেওয়া হবে। শিশুদের পাঠদানে সহযোগিতা করার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দুইজনকে স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন বই হাতে পেয়ে শিশুরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। শিশু সিহাব জানায়, তাদের অনেকে বাবা-মা ছাড়া বড় হচ্ছে। এই স্কুলটি তাদের শেখার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সে মানুষের মতো মানুষ হয়ে একটি ভালো জীবন গড়তে চায়। আরেক শিশু সুমন জানায়, বই পেয়ে তার খুব ভালো লাগছে এবং এখন থেকে সে নিয়মিত লেখাপড়া করবে।
শিক্ষক ও উদ্যোক্তার বক্তব্য
শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া জবি বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী লিখন ইসলাম বলেন, “আমরা চাই না কোনো সুবিধাবঞ্চিত শিশু অপরাধে জড়িয়ে পড়ুক। শিক্ষার মাধ্যমেই তাদের সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই মহৎ উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত তারেক রহমানের শিক্ষাচিন্তা তুলে ধরে বলেন, “তারেক রহমান সবসময় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। ন্যায়, মানবতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় শিক্ষা অপরিহার্য-এই বিশ্বাস থেকেই পথশিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। ভবিষ্যতে ইতিবাচক সাড়া পেলে এই শিক্ষালয়ের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ফুটপাতে থাকা শিশুরা সহজে মাদক বা অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই তাদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য নিয়মিত শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং সুস্থ জীবনের পথে ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”