ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি ॥
ঢাকার ধামরাই উপজেলার বকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শরিফের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদানকালীন সময়েও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অর্থের বিনিময়ে জমি পরিমাপের কাজ করছেন। একই সঙ্গে, তিনি শিক্ষকদের বিভিন্ন আন্দোলনেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত বলে জানা গেছে।
ক্লাস ফাঁকি ও ‘দ্বৈত পেশা’-য় ক্ষুব্ধ অভিভাবক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি বেতনভুক্ত শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও মো. শরিফ নিয়মিতভাবে বিদ্যালয়ের পাঠদান বাদ দিয়ে বিভিন্ন স্থানে জমি মাপার কাজ করে থাকেন। তার এই কর্মকাণ্ড স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা স্কুলে গেলে শিক্ষক শরিফ স্যারকে খুঁজে পাওয়া যায় না। সরকারি বেতন নিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।”
সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা বা শিক্ষকের দ্বৈত পেশায় নিয়োজিত থাকা সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের কাজ সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী।
তদন্তের আশ্বাস শিক্ষা অফিসের
শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও সুনাম রক্ষার্থে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।